“বিতর্কিতদের আনন্দ দ্বিগুণ করে আমাদের ঈদ বিষাদ করে দেয়া হয়েছে”

নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০১৯


ছাত্রলীগের নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির পদবঞ্চিতরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে নিরানন্দ ঈদ কাটিয়েছেন। ৫ জুন, বুধবার মুসলিমদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরের দিনেও তারা রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে গেছেন।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বিতর্কিতদের বহিষ্কার ও ত্যাগি পদবঞ্চিতদের পদায়নের দাবিতে গত ২৭ মে থেকে তারা টানা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নানা আন্দোলন সংগ্রামের তীর্থ স্থান হলেও ঈদের সময়ে রাজু ভাস্কর্যে এভাবে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার উদাহরণ স্মরণকালে এবারই প্রথম।

ঈদের দিনেও নিজেদের প্রতিবাদি অবস্থান কর্মসূচি সম্পর্কে ছাত্রলীগের গত কমিটির কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেন বাংলা রানারকে বলেন, "ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী আমাদের ঈদকে মাটি করে দিয়েছেন। সবাই যেখানে পরিবারের সাথে, বাবা-মায়ের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে সেখানে আমরা রাজুতে নিরানন্দ ঈদ কাটিয়েছি।"

এই ছাত্রনেতা বলেন, "ক্যাম্পাসে এখন ছিন্নমূল মানুষ আর আমরা পদবঞ্চিতরা আছি। ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক বিতর্কিতদের আনন্দ দ্বিগুণ করে দিয়েছেন। অন্যদিকে আমাদের ঈদকে বিষাদ করে দিয়েছেন।"

বর্তমান কমিটিতে পদবঞ্চিত ও গত কমিটির উপ-দপ্তর সম্পাদক নকিবুল ইসলাম সুমন, উপ-কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক মুরাদ হায়দার টিপু, স্কুলছাত্র বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, সমাজসেবা সম্পাদক রানা হামিদ, কবি জসিমউদদীন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহেদ খানসহ বেশ কিছু নেতা কর্মী অবস্থান কর্মসূচিতে অনড় রয়েছেন।

অবস্থানকর্মসূচিতে থাকা নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন জানিয়ে ছাত্রলীগের গত কমিটির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপ-সম্পাদক আল মামুন বলেন, ভিসি স্যার (অধ্যাপক আখতারুজ্জামান) আমাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। নামাজ শেষে আমরা রাজুতে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা ১১তম দিনের মতো এ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা চাই ছাত্রলীগ কলঙ্কমুক্ত হোক।

প্রসঙ্গত, ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি প্রকাশের প্রায় ১০ মাস পর গত ১৩মে ঘোষণা করা হয় সংগঠনের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। ওইদিন সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া ছাত্রলীগের বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে সংগঠনের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা তাদের ওপর হামলা চালান।

এতে কয়েকজন নারী নেত্রীসহ ১০-১২ জন আহত হন। এ ঘটনা নিয়ে পদবঞ্চিতরা আন্দোলনে নামলে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের আশ্বাসে তারা আন্দোলন থেকে সরে আসেন। মধুর ক্যান্টিনের সেই ঘটনায় ২০মে রাতে ৫ জনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে ছাত্রলীগ। এই ঘটনার এক সপ্তাহ পর গত ২৭ মে ফের আন্দোলনে নামেন পদবঞ্চিতরা।