রবীন্দ্রনাথ গড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় আর হুমায়ূন করেছেন পিকনিক স্পট!

নিজস্ব প্রতিবেদক
শনিবার, ২০ জুলাই, ২০১৯


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তি নিকেতনের আদলে আমাদের লেখকেরা প্রমোদ কেন্দ্র বানিয়েছেন বলে মন্তব্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর বলেছেন, “আমাদের বড় বড় লেখক সাহিত্যিক যারা অনেক টাকা পয়সা রোজগার করেছেন, তারা প্রমোদ কেন্দ্র বানিয়েছেন। তারা জমি-টমি নিয়েছেন, জায়গা নিয়েছেন; সুন্দর সুন্দর নাম দিয়েছেন। প্রমোদ কেন্দ্র বানিয়েছেন।”

গত ৪ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার লেকচার হলে ‘‘বাঙালির রবীন্দ্রনাথ” শীর্ষক এক সাহিত্য আড্ডায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ছিলেন জমিদার। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশতে চেয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে মিশেও গেছেন। এই মানুষটি নিজের জমিদারিত্ব বর্জন করে ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের সাথে মাটির কাছাকাছি মিশে গেছেন।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদদের ৫১তম সাহিত্য আড্ডায় প্রাবন্ধিক সৌমিত্র শেখর বলেন, “রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতন দাঁড় করালানে। ব্রিটিশদের যে শিক্ষাব্যবস্থা ছিল তার বাইরে গিয়ে নিজস্ব একটা শিক্ষাব্যবস্থা দাঁড় করালেন।”

কারো নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, “অন্যদিকে আমাদের লেখক যারা আছেন, এই যুগের লেখক যারা আছেন তারাও এ রকম বিশাল জায়গা নিলেন। চারদিকে বাউন্ডারি দিয়ে সুন্দর সুন্দর নাম দিলেন! কেউ দিলেন ওমুক পল্লী কেউ দিলেন ওমুক কটেজ। ওটা করলেন প্রমোদ কেন্দ্র। তিনি হচ্ছেন মধ্যবিত্ত। তিনি গাছের ওপরে সেই জায়গায় একটি কাচের ঘর বানালেন। ঘর বানিয়ে সেখান থেকে জোসনা দেখবেন! অর্থাৎ তিনি নিজে মধ্যবিত্ত কিন্তু জমিদারিত্ব তার ভেতর কাজ করছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না গড়ে বিনোদন কেন্দ্র গড়ার সমালোচনা করে কলামিষ্ট সৌমিত্র বলেন, “তিনি তার জোসনা বিলাশ তৈরি করলেন। অথচ সেখানে যদি একটা বিশ্ববিদ্যালয় হত, আপনি যে বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দ করতেন সেটাই হত। এটা হতে পারত ফিল্মের ওপরে, আর্টের ওপরে, হতে পারত আপনি যেটা চান সেটার ওপরে।”

“তাহলে ওইটি আমাদের জাতীয়ভাবে কাজে লাগত। ওইটি পিকনিক স্পট হত না। ওখানে যেয়ে বনভোজন করে আমরা উচ্ছৃষ্ট ফেলে আসতাম না। ওখান থেকে অনেক কিছু নিয়ে আসতাম, আমাদের জ্ঞানরাজ্য বিকশিত হত” যোগ করেন ড. সৌমিত্র।