শিশুদের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিল সাংস্কৃতিক কেন্দ্র আয়োজন করতে যাচ্ছে বই ইলাস্ট্রেশন প্রদর্শনী ‘ড্রয়িং ওয়ার্ডস’। ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহায়তায় এবং ওয়াটারস্টোনস ইউকে চিলড্রেনস লরিয়েট, লরেন চাইল্ড এর তত্ত্বাবধানে প্রদর্শনীটি অনুষ্ঠিত হবে। প্রদর্শনীটি ঢাকার ফুলার রোডে অবস্থিত ব্রিটিশ কাউন্সিল কার্যালয়ে আগামী ২৮ জুন থেকে শুরু হয়ে ১১ জুলাই পর্যন্ত চলবে।
এদিকে কক্সবাজারের জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারেও ২৯ এবং ৩০ জুন অনুষ্ঠিত হবে দুই দিন প্রদর্শনী। ড্রয়িং ওয়ার্ডস প্রদর্শনীগুলোতে যুক্তরাজ্যের ১০ জন ইলাস্ট্রেটরের কাজ প্রদর্শন করা হবে, যাদের কাজগুলো সমসাময়িক ব্রিটিশ পিকচার বুক ইলাস্ট্র্রেশনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। শিল্পীদের মাঝে কয়েকজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পী রয়েছেন যারা ইলাস্ট্রেশন নিয়ে তাদের চর্চা অব্যাহত রেখেছেন।
অনেকে আবার এই বিষয়ে তাদের ক্যারিয়ার শুরু করেছেন, যারা এই শিল্পমাধ্যমটিকে নিয়ে যেতে চান অনন্য উচ্চতায়। ব্রিটিশ ইলাস্ট্রেটর এমিলি হিউজেস ২৮ জুন প্রদর্শনীটির উদ্বোধন করবেন। প্রদর্শনীগুলোতে এমিলি’র ইলাস্ট্রেশন ‘ওয়াইল্ড’ প্রদর্শন করা হবে। এ ছাড়াও, ঢাকায় অবস্থানকালে এমিলি ঢাকা এবং কক্সবাজারে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অংশগ্রহণমূলক কর্মশালায় অংশগ্রহণ করবেন।
ইলাস্ট্রেশন নিয়ে এমিলি বলেন, ‘ড্রয়িং অনেকসময়ই একটি প্রশ্ন বা কোন একটি অসমাপ্ত ধারণা দিয়ে শুরু হয়। যখন এই ড্রয়িংগুলো বড় কলেবরে উন্মোচিত হয় তখন এগুলো মুক্ত হয় এবং পূর্ণতা লাভ করে। ড্রয়িং যখন কোন কিছু ব্যাখ্যা করতে পারে না, ঠিক তখনই আসে শব্দ।’
প্রদর্শনীগুলো সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে চলবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। আগ্রহীরা বিনামূল্যে প্রদর্শনীগুলোতে অংশগ্রহণ করতে পারবে। ড্রয়িং ওয়ার্ডসের ধারণা এসেছে ‘ম্যাজিক পেন্সিল’ নামক শিশুতোষ বই ইলাস্ট্রেশনের একটি ভ্রাম্যমান প্রদর্শনী থেকে। যুক্তরাজ্যের চিলড্রেনস লরিয়েট কুইন্টিন ব্লেইক ২০০২ সালে প্রথম শিশুদের জন্য ইলাস্ট্রেশন নির্বাচিত করে। যেখানে লরেন চাইল্ডের কাজও অন্তর্ভুক্ত হয়। ড্রয়িং ওয়ার্ডস আমাদের শিশুতোষ ইলাস্ট্রেশন এবং নতুন প্রজন্মের ইলাস্ট্রেশন শিল্পীদের সাথে পরিচয়ের সুযোগ করে দিবে।
প্রসঙ্গত, বিশ্বজুড়েই সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ও শিক্ষার সুযোগ নিয়ে কাজ করে যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক সংস্থা ব্রিটিশ কাউন্সিল। ১৯৩৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্রিটিশ কাউন্সিল রয়্যাল চার্টার ও ইউকে পাবলিক বডি দ্বারা পরিচালিত যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতব্য সংস্থা। প্রতিষ্ঠানটি ১৫ শতাংশ অনুদান সহায়তা দেয় যুক্তরাজ্য সরকার।
পৃথিবীর ১শ’টিরও বেশি দেশে এ প্রতিষ্ঠানটি শিল্প, সংস্কৃতি, ইংরেজি ভাষা, শিক্ষা এবং সমাজ গঠনে কাজ করে থাকে। অনলাইনে, ব্রডকাস্ট ও বিভিন্ন প্রকাশনার মাধ্যমে গত বছর ব্রিটিশ কাউন্সিল সরাসরি ৬৫ মিলিয়ন এবং সর্বোপরি ৭শ’ ৩১ মিলিয়ন মানুষের কাছে পৌঁছেছে। যেসব দেশে ব্রিটিশ কাউন্সিল কাজ করে সে সব দেশে যুক্তরাজ্যের সাংস্কৃতিক সম্পদের ব্যবহারের মাধ্যমে সুযোগ সৃষ্টি, সম্পর্ক নির্মাণ ও আস্থা অর্জনে ব্রিটিশ কাউন্সিল জীবন পরিবর্তনের মাধ্যমে ইতিবাচক অবদান রেখে আসছে।