গোটা দেশেই শিক্ষিত তরুণদের চোখে এখন হতাশার সর্ষেফুল। এই হতাশা কাটাতে সাহিত্য, বিপ্লব, বই পড়া, আন্দোলন আর রাস্তায় রাস্তায় দোকান উঠিয়ে মোটিভেশন বিলি করলেও কোনো কাজ হবে না। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে খালিমুখে লাইব্রেরিতে আসা তরুণকে জাফর ইকবালের বই দিলে গিলবে না।
বড়লোক বাবা আর সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় তৈরি হওয়া সেলিব্রিটিদের মোটিভেশন গিলে খাওয়ালেও বেকার তরুণের খালি পেট থেকে তা বমি হয়ে বেরিয়ে যাবে। কেননা, মাস শেষে মেসের ভাড়া নিয়ে টেনশন করা ছেলেটার একটা চাকরি দরকার। তার টাকা দরকার, টাকা। নিজের বেঁচে থাকার যুদ্ধ , বাবা-মা’র চিকিৎসার টাকা, ছোট ভাই-বোনের পড়াশোনার খরচের চিন্তা বাদ দিয়ে দেশ নিয়ে ভাবার সময় নেই কারো। তা সম্ভবও না। সেই ভাবনা মাথায়ও আসবে না।
যদি তরুণদের হতাশা কাটাতে চান। যদি তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া ‘চাকরি নাই’ নামক ভয়াবহ ‘ক্যান্সার’ দূর করতে চান তাহলে দেশের ব্যাংকিং খাতে সুস্থতা আনুন। চাপাবাজ-দুর্নীতিবাজ না, ব্যাংকিং খাতে ভিশনারি কিছু মানুষ বসান। শিক্ষিত তারুণকে যারা সার্টিফিকেট বন্দক রেখে হলেও সুদমুক্ত লোন দিবে।
শিক্ষাজীবন শেষ না হতেই লাখ লাখ তরুণ কাজে নেমে যাবে। কেউই চাকরির আশায় বসে থাকবেনা। বড় বড় রাঘব-বোয়ালরা হাজার হাজার কোটি টাকা মেরে দেশের বারটা বাজাচ্ছে। কিন্তু নিয়মতান্ত্রিকভাবে দশ লাখ টাকা ব্যাংক পাড়ায় জোটে না।
পেটে ক্ষুধা নিয়ে কেউ অস্কারপাওয়া মুভি বানাতে পারে না। নোবেল লরিয়েট হয় না। খালি পেটে ইবাদতই হয় না, সেখানে নৈতিকতাতো পরের বিষয়। প্যারাসিটেমল ট্যাবলেট দিয়ে ক্যান্সারের রোগীকে সুস্থ করা যাায় না। তাই চাকরি নামক ক্যান্সার সাড়াতে তারুণ্যকে শিক্ষাজীবনের শেষেই কাজে লাগানোর বন্দোবস্ত করতে হবে। তাহলেই দেশ সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া হবে। না হলে মুখের বুলি মুখেই থাকবে।
লেখক: সানাউল হক সানী, সাংবাদিক