৫৮ শিক্ষকের বিবৃতি
সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির ‘জয় হিন্দ’ শ্লোগান উচ্চারণ করাকে বাংলাদেশের রাষ্ট্র সত্ত্বার সাথে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ৫৮ জন শিক্ষক। ৪ অক্টোবর, শুক্রবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবাদ লিপিতে তারা এ দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তারা ভিসি ও প্রোভিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে তাদের অপসারণের দাবি জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যাবোধে বিশ্ববাসী প্রগতিশীল এই শিক্ষক সমাজ।
প্রতিবাদ লিপিতে তারা বলেন, গত ২৬ শে সেপ্টেম্বর রাবি শহীদ তাজ উদ্দিন সিনেট ভবনে আয়োজিত এক সেমিনারে ভিসি জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু এবং জয় হিন্দ বলে বক্তৃতা শেষ করেন। পরে ভিসির পক্ষে জনসংযোগ প্রশাসক এক ধূর্ত বাখ্যা গণমাধ্যমে সামনে হাজির করেন। যা প্রশাসনের দূরভিসন্ধি স্পষ্টভাবে প্রকাশিত। বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাত্মক সহায়তা দানকারী প্রতিবেশী ভারতের রাজনৈতিক এবং সামরিক শ্লোগান ‘জয় হিন্দ’ রাবি ভিসি কর্তৃক উচ্চারিত বাংলাদেশের রাষ্ট্র সত্ত্বার সাথে সাংঘর্ষিক।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রো-ভিসি ড. জাকারিয়ার ফাঁস হওয়া ফোনালাপে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে নিয়োগ বাণিজ্য নিমজ্জিত তিনি। এটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে আর্থিক লেনদেনে যে জনরব চালু আছে তারই সত্যতা প্রমান। এহেন কর্মকান্ডে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। রাবি ভিসি প্রফেসর ড. এম আব্দুস সোবহান ও প্রো-ভিসি চৌধুরী মো. জাকারিয়া সাম্প্রতিক বিবেকহীন আচরণ একই সঙ্গে নিয়োগ বাণিজ্যর তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে মাননীয় প্রধানন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী শিক্ষকগণ হলেন, বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডীন ও প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মো. হাবিবুর রহমান, ইসলামের ইতিহাসের প্রফেসর ড. এম মুনজুরুল ইসলাম, সাবেক লাইব্রেরি প্রশাসক ও বাংলার প্রফেসর সফিকুন্নবী সামাদী, প্রাণিবিদ্যার ড. এম নজরুল ইসলাম, পদার্থবিজ্ঞানের এম খলিলুর রহমান খান, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজের মোহা. সোলাইমান খান, আইন ও ভূমি প্রশাসন মো. শাহরিয়ার পারভেজ, প্রাণ রসায়নের সাখাওয়াত হোসেন, নৃ-বিজ্ঞানের গোলাম ফারুক সরকার, মোস্তাফিজুর রহমান, অর্থনীতির ফজলুল হক, ফার্মেসীর একরামুল ইসলাম,
সাবেক ছাত্র-উপদেষ্টা ও ভূগোল পরিবেশবিদ্যার ড. মিজানুর রহমান, রসায়নের তারিকুল হাসান, প্রাণরসায়নের জাহাঙ্গীর আলম সাউদ, এ এস এম কামরুজ্জামান, মোসা. শামসুন নাহার, এজেডএম তৌহিদুল ইসলাম, সাবেক ডীন ও আইন ভূমি প্রশাসনের সভাপতি ড. বিশ্বজিৎ চন্দ্র, ড. আলী আসগর, ড. সুলতান মাহমুদ রানা, আসাবুল হক, ড. সরকার সুজিত কুমার, সাবেক প্রক্টর ড. মজিবুল হক আজাদ, মামুনুর রশিদ তালুকদার, সুলতান-উল-ইসলাম, ড. নাসিমা আখতার, ড. জিন্নাত আরা বেগম, আসিত রায়, ড. দুলাল চন্দ্র রায়, ফজলুল করিম, মোসÍফা তারিখুল আহসান, সৈয়দ মুহাম্মদ আলী রেজা, নূরুল এম চৌধুরী, ড. একেএম আসাদুজ্জামান প্রমুখ।
এর আগে বৃহস্পতিবার ভিসি ও প্রোভিসির অপসারণ চেয়ে ‘স্বাধীনতাবিরোধী ও দুর্নীতিবাজ প্রশাসনের অপসারণ চাই’ এমন শিরোনামে দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষক সমাজের ব্যানারে মানববন্ধনের আয়োজন করেন প্রগতিশীল শিক্ষকদের একাংশ। সেখানে পূজার ছুটির পরে ভিসি প্রো-ভিসি অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।