রাজনীতি নিষিদ্ধের প্রতিক্রিয়া:

পাকিস্তানি আইনে চলে বুয়েট...

সানাউল হক সানী
সোমবার, ১১ নভেম্বর, ২০১৯


১৯৬২ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রকৌশল ও কারিগরী বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বুয়েটের যাত্রা শুরু। ওই সময়টাতে দেশ ছিলো স্বাধীকারের দাবিতে উত্তাল। ফলে আইয়ুব সরকার তার নীলনকশার আলোকে বুয়েট বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রুপান্তর করলেও ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ রাখে। এমনকি মিছিল-সমাবেশসহ অনেক অনেক ছোট ছোট বিষয়ও নিষিদ্ধ করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হাতে দেওয়া হয় নিরঙ্কুশ ক্ষমতা। এরপর দেশ স্বাধীন হলে সরকারি চারটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য ১৯৭৩ সালে আলাদা আইন হয়। ইঞ্জিনিয়ারিং ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আলাদা আইন করার কথা ছিলো। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যে দিয়ে সে উদ্যোগ থমকে যায়। এরপর পেরিয়ে গেছে দীর্ঘসময়। সে আইন আর হয়ে ওঠেনি।

১৯৭৫ থেকে ২০১৯। কখনো শুনিনি কোথাও উচ্চারিত হয়েছে বুয়েটের পাকিস্তানি আইন সংশোধনের দাবি। সরকার যায়, সরকার আসে। পাকিস্তানি আইনে চলা বুয়েট থেকে কখনোই পাকিস্তানি ভূত নামেনি। ২০১১/১২ সালে একটি সংবাদ করেছিলাম “বুয়েটে ওড়েনা জাতীয় পতাকা”। বিভিন্ন হল ও ইনস্টিটিউটের সামনে পতাকার স্ট্যান্ড থাকলেও সেখানে পতাকা উড়ত না।

বর্তমানের বিষয়টি জানি না। যাই হোক, ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ সমাধান নয়, বরং ছাত্ররাজনীতিকে উন্মুক্ত করে দেওয়াটাই সমাধান। স্বাধীন বাংলাদেশে পাকিস্তানি আইন বলবৎ রাখা লজ্জাজনক।

লেখক: সাংবাদিক