ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

জোবাইদা নাসরিনকে মারধর করেছেন ছাত্রলীগ

ঢাবি প্রতিনিধি
শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২০


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জোবাইদা নাসরীন ছাত্রলীগের নারী নেত্রীদের হাতে মারধর ও লাঞ্ছিত হয়েছেন। গত রোববার সসন্ধ্যায় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে এই ঘটনা ঘটে। শাড়িে ভাগবাটোয়ারা নিয়ে হল ছাত্রলীগের দুই গ্রূপের মধ্যে মারামারি ও ধস্তাধস্তি বাধলে হলের সহকারী আবাসিক শিক্ষক জোবাইদা নাসরীন তাদের নিবৃত্ত করতে গেলে তাকে লাঞ্চিত করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। 

আজ সোমবার তিনি ওই ঘটনার জন্য বিচার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ হলের প্রাধ্যক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিষয়ে অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন বলেন, শাড়ি নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মারামারি অভ্যন্তরীণ বিষয়। কিন্তু হলের হাউজ টিউটর হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো কেউ আক্রান্ত হলে তাকে সেভ করা। কে কোন দল করে, সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। কিন্তু সেখানে একজন শিক্ষক হিসেবে ছাত্রীরা আমার গায়ে হাত তুলেছে।

ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে তিনি বলেন, তাদের মারধরের কারণে আমার ঘাড় ফুলে গেছে এবং আমার পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা। আমি এখন চিকিৎসাধীন আছি। প্রশাসনের কাছে বিচার দিয়েছি। দেখি তারা কি পদক্ষেপ নেন।

এ ঘটনায় তিনসদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাকিয়া পারভীন বলেন, আমার কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। আমি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি।

ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পেয়েছি। এটি উপাচার্যের কাছে পাঠানো হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত করে এ বিষয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’

ঘটনার বিষয়ে প্রক্টর একেএম গোলাম রাব্বানী বলেছেন, বিষয়টি উপচার্য স্যারকে জানানো হয়েছে। তিনি এটিকে গুরুত্বসহকারে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রওনক জাহান রাইয়ান ছাত্রলীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কর্মীদের মধ্যে শাড়ি বিতরণ করেন। ০৬ জন কর্মী শাড়ি না পেয়ে রুমে চলে যান। এ সময় হল ছাত্রলীগের সহসভাপতি সালসাবিল খান তাদের ডেকে ০৬ জনকে ০৬টি শাড়ি দেন। তিন্তু এতে রাইয়ান ক্ষুব্ধ হয়ে যান। এ নিয়ে দু পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি এবং পরে দফায় দফায় মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে হল সংসদের বহির্ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও ছাত্রলীগ নেত্রী পাপিয়া আক্তার, হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক ইসরাত জাহান ইতি ও মিলি রাণী আহত হন।

জানা গেছে, রওনক জাহান রাইয়ান কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের অনুসারী। আর সালসাবিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের অনুসারী। ঘটনার পর ছাত্রলীগ থেকে সালসাবিলকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।