শিরোনামবেশি মৃত্যু মোটরসাইকেলে ও পথচারীকে চাপায়
ঈদে এলেই নাড়ির টানে বাড়ি ফেরে সবাই। আধো-ঘুম আধো জাগরণে বাসের সীটে যায় সময়। আবার ঈদ শেষে অনেকেই হাসি মুখে স্বজনদের বলেন বিদায়। ঈদে বাড়ি যাওয়া এবং আসার এই আনন্দ যাত্রাই অনেকের জীবনে হয়ে যায় শেষ যাত্রা। অনেকেই আবার গুরুতর আহত হয়ে বয়ে বেড়ান বিষাদ পূর্ণ জীবন। প্রতি বছর সড়কে মুখ চেপে ডুকরে কেঁদে ওঠে স্বজন হারানো অসংখ্য শূন্য হৃদয়। বাবা-মায়ের আহাজারীতে ভারী হয়ে ওঠে আকাশ-বাতাস। একটি দুর্ঘটনা একটি পরিবারের জন্য বয়ে আনে সারা জীবনের কান্না।
এবারের ঈদেও সারা জীবনের কান্না হয়েছে অনেক পরিবারে। ঈদুল ফিতরের আগে-পরে ১৩ দিনে সারাদেশের সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সম্মিলিতভাবে ২৫৬টি দুর্ঘটনায় ৮৬০ জন আহত হয়েছেন। আর ২৯৮ জন যাত্রীর জীবনে এটাই ছিল শেষ ঈদ। এর মধ্যে শুধু সড়কেই ২৩২টি দুর্ঘটনায় ২৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, আর আহত হয়েছে ৮৪৯ জন।রএই পরিসংখ্যান বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির। সংগঠনটি ২০১৬ সাল থেকে প্রতি বছর ঈদযাত্রায় সড়ক, রেল ও নৌ-পথে দুর্ঘটনা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানির বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে।
তবে ঈদযাত্রার ওপর নজর রেখেছিল এমন একাধিক সংগঠন দুর্ঘটনার ভিন্ন ভিন্ন পরিসংখ্যান দিয়েছেন। পরিসংখ্যানে নিহত-আহতের সংখ্যা কমবেশি হলেও দুর্ঘটনা কখনোই ভুক্তভোগিদের জন্য সুখকর নয়। যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ তাদের হিসেবে ঈদের ১২ দিনে তিন পথে ২৪৭ জনের জীবনের ইতি টানার খবর দিয়েছেন। আর নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি ১১ দিনের হিসেব দিয়ে জানিয়ে বলছে, সড়কপথে ঈদ যাত্রাই শেষ যাত্রা ছিল ১৪২ জনের জীবনে।
তবে তুলনামূলকভাবে বিগত ঈদের চেয়ে এবার রাস্তাঘাটের পরিস্থিতি কিছুটা ভাল ছিল বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, নৌ-পথে বেশ কয়েকটি নতুন লঞ্চ বহরে যুক্ত হয়েছে, রেলপথেও বেশ কয়েক জোড়া নতুন রেল ও বগি সংযুক্ত হয়েছে। এবারের ঈদের লম্বা ছুটি থাকায় জনসাধারণ আগেভাগে বাড়ি ফিরেছে। ফলে ঈদযাত্রা খানিকটা স্বস্তিদায়ক হয়েছে। রাস্তাঘাটের পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতিসহ সার্বিক পরিকল্পনা কাজে লাগানোর কারণে এবারের ঈদে বিগত বছরের তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনা ১৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ, নিহত ২৪ দশমিক ১৭ শতাংশ ও আহত ৪৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ কমেছে।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব বলেন, এ বছর মোট সংঘটিত ২৩২টি সড়ক দুর্ঘটনার ৭৬টি ঘটেছে মোটরসাইকেলের সঙ্গে অন্যান্য যানবাহনের সংঘর্ষে, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৩ শতাংশ। অন্যদিকে পথচারীকে গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে প্রায় ৪৫ শতাংশ। আগামী ঈদে এ দুটি ঘটনা এড়ানো সম্ভব হলে এই দুর্ঘটনার প্রায় ৮০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদ যাত্রা শুরুর দিন ৩০ মে থেকে ঈদ শেষে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফেরা ১১ জুন পর্যন্ত বিগত ১৩ দিনে ২৩২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭৩ জন নিহত ও ৮৪৯ জন আহত হয়েছে। এসব ঘটনায় ৪০ জন চালক, ২০ জন শ্রমিক, ৬৮ জন নারী, ৩৩ জন শিশু, ২৪ জন ছাত্রছাত্রী, দুই জন চিকিৎসক, ১৯ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, তিন জন রাজনৈতিক নেতা এবং ৯১২ জন পথচারী সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।
অন্যদিকে একই সময়ে রেলপথে ট্রেনে কাটা পড়ে আটটি, ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে দুইটি, ট্রেন যানবাহন সংঘর্ষে একটি, ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার দুইটি ঘটনায় মোট ১৩ জন নিহত ও তিন জন আহত হয়েছে। একই সময়ে নৌ-পথে ১১টি ছোটখাট বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত, তিন জন নিখোঁজ ও আট জন আহত হয়েছে।
সমিতির দেওয়া তথ্যানুযায়ী এসব দুর্ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ বাস, ২৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ মোটরসাইকেল ২৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান, লরি, ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ কার-মাইক্রো, ৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ অটোরিকশা, ৪ দশমিক ৪২ শতাংশ নছিমন-করিমন ও ৪ দশমিক ৭১ শতাংশ ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইক এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল। সংগঠিত দুর্ঘটনার ২৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৪৪ দশমিক ৮২ শতাংশ পথচারীকে গাড়িচাপা দেওয়ার ঘটনা, ১৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ার ঘটনায় ও ৬ দশমিক তিন শতাংশ অনান্য অজ্ঞাত কারণে দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির সাত পরামর্শ: ঈদ যাত্রার দুর্ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করে এসব দুর্ঘটনার সাতটি কারণ চিহ্নিত করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। একই সঙ্গে এই সাতটি বিষয়ে সতর্ক হলে দুর্ঘটনা কমে আসবে বলে মনে করে সংগঠনটি। তাদের সাত পরামর্শ হল-০১. ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী বহন। ০২. অদক্ষ চালক ও হেলপার দ্বারা যানবাহন চালানো। ০৩. মহাসড়কে অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, নসিমন-করিমন ও মোটরসাইকেল অবাধে চলাচল। ০৪. বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানো। ০৫. সড়ক-মহাসড়কে ফুটপাত না থাকা। ০৬. পণ্যবাহী যানবাহন বন্ধের নিষেধাজ্ঞা অমান্য এবং ০৭. মোটরসাইকেলে ঈদযাত্রা এসব দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।
যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ: ঈদের ১২ দিনে তিন পথে ২৪৭ জনের মৃত্যু
এবার ঈদ যাত্রায় ১২ দিনে সড়ক, রেল ও নৌপথে ২৪৭ জন নিহত ও ২৬৪টি জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এই হিসাব দেয় সংগঠনটি। এর মধ্যে সড়ক মহাসড়ক ১৮৫ দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ২২১ জনের আর আহত ৬৫২ জন ও ৩৭৫ জন পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। অনুষ্ঠানে জানানো হয় ১৮টি জাতীয় ও ৬টি আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকা এবং ১০টি অনলাইন নিউজ পত্রিকার প্রকাশিত খবর থেকে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ঈদযাত্রার প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩০শে মে ঈদযাত্রা শুরুর দিন থেকে ১০ জুন পর্যন্ত বিগত ১২ দিনে সড়কপথ, রেলপথ ও নৌপথ মিলিয়ে সর্বমোট ২১২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ২৪৭ জন নিহত হয়েছে। যার মধ্যে ৫টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত ও রেলপথে ট্রেনে কাটা পড়ে ২২জন নিহত হয়েছেন। সড়ক পথে ৬৩টি বাস, ৩৮টি ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও পিকআপ, ১৯টি মাইক্রোবাস, ৩০টি নছিমন-করিমন, ইজিবাইক, অটোরিকশা, ৬৪টি মোটরসাইকেল ও ২৬টি অন্যান্য যানবহন এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল।
সরকারের সদিচ্ছায় এবারের ঈদ যাত্রা কিছুটা স্বস্তিদায়ক হয়েছে। পাশাপাশি বিগত বছরের চেয়ে এবার দুর্ঘটনা ও প্রাণহানী কম হয়েছে বলেও দাবি সংগঠনটির। দুর্ঘটনা রোধে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও ফিটনেস পরীক্ষার সুপারিশ করেছে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। তবে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে সংগঠনের সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) জি এম কামরুল ইসলাম বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত যাত্রীচাপ, চালকদের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব, অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, অদক্ষ চালকের হাতে দৈনিক চুক্তিতে যানবাহন ভাড়া দেয়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন মহাসড়কে অটোরিকশা ব্যাটারি চালিত রিকশা নসিমন-করিমন মোটরসাইকেল চলাচল, বিপদজনক বিরতিহীন ভাবে যানবাহন চালানো ও যাত্রীদের ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা এসব দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।
নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি: ঈদ যাত্রাই শেষ যাত্রা ১৪২ জনের
নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির ঈদ-যাতায়াত পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩০ মে থেকে ৯ জুন পর্যন্ত ১১ দিনে সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২৪ জন আহত হয়েছেন এবং ঈদ যাত্রাই অন্তিম যাত্রা হয়েছে ১৪২ জনের ভাগ্যে। এরমধ্যে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সড়ক, মহাসড়কে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৯৫টি। সংগঠনটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনা ছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় এবার সড়ক ও নৌপথে ঈদ-যাতায়াত স্বস্তিদায়ক ছিল। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জনগণ প্রত্যাশিত সেবা পায়নি।
বিভিন্ন গণমাধ্যমসূত্রে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির দেয়া তথ্য মতে, গত ৩০ মে বৃহস্পতিবার ঈদযাত্রার প্রথম দিনেই সাতটি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত হয় ও আটজন আহত হয়। পরদিন ৩১ মে ৬টি দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত হন যথাক্রমে ছয়জন ও সাতজন। পহেলা জুন ১১টি দুর্ঘটনায় ১০ নিহত ও ৩১ জন আহত হয়। ২ জুন ১৫টি দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ও ৩৮ জন আহত হন। ৩ জুন সাতটি দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ১৪ জন আহত হয়েছেন। ৪ জুন দুর্ঘটনা ঘটেছে ছয়টি। এতে নিহত ও আহত হয়েছেন যথাক্রমে ১৬ জন ও ৬২ জন। ৫ জুন ঈদুল ফিতরের দিন ১৬টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত ও ৭৮ জন আহত হয়েছেন। ৬ জুন নিহত ও আহতের সংখ্যা যথাক্রমে ১১ ও ৩৩। ওইদিন দুর্ঘটনা ঘটেছে আটটি। ৭ জুন ছয়টি দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটেছে ১১ জনের, আহত হয়েছেন ১৮ জন। ৮ জুন সাতটি দুর্ঘটনায় আটজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। ৯ জুন ৬টি দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতের সংখ্যা যথাক্রমে পাঁচ জন ও ২৪ জন।
অগণিত যাত্রী চরম দুর্ভোগ ও ভাড়া জুলুমের শিকার: সংগঠনটির প্রতিবেদনে বলা হয়, অনলাইনে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে প্রযুক্তিগত সমস্যা ও ঈদ-যাত্রার প্রথম দিন থেকে দূরপাল্লার অনেক ট্রেনের সময়সূচি বিপর্যয়ের কারণে অগণিত যাত্রী চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছে। ঈদের আগে ঢাকা-মাওয়া, ঢাকা-পাটুরিয়া ও ঢাকা-ময়মনসিংহসহ দূরপাল্লার বিভিন্ন সড়কে মাত্রাতিরিক্ত বাসভাড়া আদায় বন্ধ করা যায়নি। ঈদ-ফেরত যাত্রীদের কাছ থেকেও একইভাবে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হলেও তা বন্ধ করতে পারেনি প্রশাসন। এমনকি লঞ্চ ও ট্রেনের ছাদে যাত্রী পরিবহনও বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া ঈদের ছুটিতে রাজধানীর মধ্যে চলাচলরত বাস ও অটোরিকশাগুলো যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া আদায় করেছে। উবার ও পাঠাও’র মতো ইন্টারনেটভিত্তিক রাইড শেয়ারিং অ্যাপ্সের মাধ্যমে যাত্রী বহনকারী কোম্পানিগুলোও ঈদ-ছুটিতে তাদের ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়িয়েছিল।
আরও পড়ুন আপনার মতামত লিখুন
??????? ?????? ??? ??? ???
???????????? ?????????????? ??????? ?? ???? ???? ???!
???? ????? ???? ???? ??????? ???? ??? ??????????
???? ??? ???? ?????? ????? ??? ??? ?????? ??????? ???????
??????? ?????????
?????????? ?? ?????
??????? ?????????????? ?????? ???????????? ?????????? ??????? ?????????????
?????? ???????? ???? ??????
???????? ??? ?????, ????????? ????????? ???? ??? ?????
?????? ????? ?????? ???? ???? ?????
??????? ?????? ??? ??? ???
???????????? ?????????????? ??????? ?? ???? ???? ???!
???? ????? ???? ???? ??????? ???? ??? ??????????
???? ??? ???? ?????? ????? ??? ??? ?????? ??????? ???????
??????? ?????????
?????????? ?? ?????
??????? ?????????????? ?????? ???????????? ?????????? ??????? ?????????????
?????? ???????? ???? ??????
???????? ??? ?????, ????????? ????????? ???? ??? ?????
?????? ????? ?????? ???? ???? ?????