Bangla Runner

ঢাকা , সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬ | বাংলা

শিরোনাম

?????????? ?? ????? ??????? ?????????????? ?????? ???????????? ?????????? ??????? ????????????? ???????? ??? ?????, ????????? ????????? ???? ??? ????? ?????? ????? ?????? ???? ???? ????? ???? ??????: ????????? ??? ??? ????? ????? ???! ?????? ???????? ?????????? ???????, ????? ?? ????? ??? ??? ????? ??????? ???????? ???? ??????? ?-???? ??????? ??????? ???? ? ???? Important Quotations from Different Disciplines
Home / ???????? ????

বঙ্গবন্ধুর কাছে ছাত্রলীগ নেতার চিঠি:

‘‘প্রেম, পড়াশোনা, পলিটিক্স’’ এই তিন ‘‘প’’ একসাথে চলে না

রানার ডেস্ক
শনিবার, ০৩ আগস্ট, ২০১৯ Print


পিতা,

আপনাকে হাজার সালাম। কেমন আছেন আপনি?  আপনার সোনার বাংলা গড়তে আপনার কন্যার দীপ্ত পায়ে হেটে চলা দেখে আশাকরি ভালোই আছেন। আপনার নিজ হাতে গড়ে রেখে যাওয়া সংগঠন, আদর্শ বাংলার লাখো তরুণ বুকে লালন করে যাচ্ছে, আপনার কন্যার বিশ্বস্ত ভ্যানগার্ড হয়ে উঠেছে দেখে আপনার বুকটা গর্বে ভরে উঠছে নিশ্চয়ই। ওপার থেকে আশীর্বাদ করে যাচ্ছেন প্রতি মূহুর্তে তা আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি। 

আপনার রেখে যাওয়া আদর্শকে বুকে লালন করে আপনার আদর্শিক সৈনিক হওয়ার স্বপ্ন সেই শৈশব, কৈশোরের। আপনাকে অনেক কিছুই বলার ছিলো, কোন ঠিকানায় লিখবো সেটাই ভেবে পাইনি কখনো। সে সুযোগ টা হয়তো আপনি ই করে দিয়েছেন ‍“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ” নামক আপনার আদর্শকে লালন করা এক শক্তিশালী ইউনিট এর মাধ্যমে। তাই নিজের ভেতরে গত এক বছর ধরে জমে থাকা একটা প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছি আপনার কাছে। আশাকরি উত্তর পাবো। আমি এর একটি যৌক্তিক সমাধান চাই। শুরু করছি যদি অনুমতি দেন।

আমি *******। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী। আমার বয়স ২২ বছর এর কিছু বেশি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘‘আবিদ-আল-হাসান ও মোতাহের হোসেন প্রিন্স’’ কমিটির বর্ধিত কমিটিতে একটা পদ ও ছিলো। নিজের পরিচয় আড়াল করার জন্যই বাকি পরিচয় টুকু গোপন করলাম, ক্ষমা করবেন হে পিতা। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকেই কোনো এক প্রেয়সীর পবিত্র প্রেমের জালে আটকে গিয়েছিলাম আমি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে একটা কথা প্রচলিত আছে ‘‘প্রেম, পড়াশোনা, পলিটিক্স’’ এই তিন ‘‘প’’ নাকি একসাথে চালানো যায় না। যেকোনো একটাকে বাদ দিতে হয়, বাধ্যতামূলক। নাহলে কোনোটাই ঠিক ভাবে চলবে না। তারপরও চেষ্টা করেছি এভারেজ করে চালিয়ে নেয়ার। প্রকৃতি নাকি গুছানো কিছু বেশিদিন পছন্দ করে না, ঝড় বইয়ে দেয়, এলোমেলো করে দেয়, আবার গুছানোর পরীক্ষায় ফেলে।আমার গুছানো জীবনেও সে ঝড় এসেছিলো। প্রিয়তমার বাড়িতে কোনো এক শিল্পপতি প্রস্তাব দিয়েছে বিয়ের জন্য।

তার পরিবার ও উঠে পরে লেগেছে সু-পাত্রে কন্যাদান করতে। তবে প্রেয়সী কোনো ভাবেই রাজি নয়, আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করবে সেট নাকি সে কল্পনায় ও আনতে পারছে না।তাই সে পরিবার কে বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিতে বলে।পরিবার কিছুতেই তা মানতে রাজি নয়, এতো ভালো ছেলে কিছুতেই হাতছাড়া করতে চাচ্ছে না, তাই তারা রাজি না হওয়ার কারণ জানতে চায়। শেষমেষ বাধ্য হয়ে আমাদের ভালবাসার সম্পর্কের কথা জানায় ও তার পরিবার থেকে আমার সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিতে বলে। 

আমি ও পবিত্র ভালোবাসার দাবি নিয়ে দাড়াই তাদের কাছে।আমি তাদের কিছুটা পূর্বপরিচিত ও আমার পরিবার সম্পর্কে তাদের কিছুটা পূর্ব ধারণা থাকায় আমি তাদের সামনে গিয়ে আমার পবিত্র ভালবাসার দাবি নিয়ে দাড়াই। বুঝানোর চেষ্টা করি।তার পরিবারের আমাকে মেনে নিতে সম্মতি জানায়। আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া প্রকাশ করি। মনে মনে ভাবলাম, এই বুঝি সব সমাধান হয়ে গেলো। কিন্তু, ঐ যে কথায় আছে, প্রকৃতি গুছানো কিছু বেশিদিন পছন্দ করে না। তাই নতুন এক পরীক্ষায় ফেললো আমাকে। তার পরিবার থেকে আমাকে জানানো হয়, আমাদের সম্পর্কের একটা সামাজিক স্বকৃীতি চায় তার পরিবার। আমার পরিবার ঠেকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাতে বলে।

আমি বলি, এখনো আমার ছাত্রত্ব শেষ হয়নি। ইনকাম নেই। বিয়ে করে খাওয়াবো কি?তারা বলে, আমার একটা চাকরি হওয়ার আগ পর্যন্ত তারা আমাকে কোনো রকম চাপ দিবে না,  তাদের মেয়ে তাদের কাছেই থাকবে। আমার বাড়িতে নিতে হবেনা। আমি প্রতিষ্ঠিত হয়ে, অনুষ্ঠান করে আমাদের বাড়িতে নিয়ে যাবো,  তার আগে শুধু আমার পরিবার থেকে আমার অভিভাবক গিয়ে কাবিন করে আমাদের সম্পর্কের একটা সামাজিক স্বকৃীত দিতে হবে।এদিকে ছাত্রলীগের গণতন্ত্রে আছে ‘‘বিবাহিত’’ হলে কেউ ছাত্রলীগ করতে পারবে না। সেটাও তাদের বুঝিয়ে বললাম, ছাত্রলীগ নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন।  আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দেয়ার স্বপ্ন লালন করে নির্ঘুম রাত পার করেছি অনেক। বিয়ের কবুল বলার সাথে সাথে সে স্বপ্ন থেকে ছিটকে পরবো আমি। 

আর না হয়, আদর্শের সাথে, বঙ্গবন্ধুর সাথে বেঈমানী করে, তথ্যগোপন করে ভনিতা করে যেতে হবে আমাকে।সব কিছু বুঝিয়ে বলার পরেও তারা মানতে নারাজ। ঐ শিল্পপতি ছেলে তাদের কাছে জানতে চেয়েছে, তারা রাজি কিনা ঐ বিয়ের প্রস্তাবে। তাই এতো তারা। তাদের কথা হচ্ছে, 'বাবা, হয় তুমি তোমার অভিভাবক নিয়ে কাজী ডেকে কাবিন করে যাও, নাহলে আমরা ওকে আমাদের পছন্দের ছেলের কাছে বিয়ে দিয়ে দিবো। বাকিটা তোমার বিষয়। কালকের মধ্যেই আমাদের জানাও। প্রেয়সী রাতভর কানাকাটি করে যাচ্ছে ফোনে, আমি আপনাকে ছাড়া বাচবো না,  কিছু একটা করেন, আমাকে অন্য কোথাও বিয়ে দিতে চাইলে আমি আল্লাহর কসম সুইসাইড করবো।আমার মাথায় কিছুই ঢুকছে না। কি করবো।

বাড়িতে কিভাবে বলবো? ছাত্ররাজনীতির কি হবে? কোনো কিছু মেলাতে পারছি না। ওর কথা, আপনার উপর তো আমার বাবা-মা কোনো ভরণ-পোষণ এর চাপ দিচ্ছে না, শুধু কাবিনটা করে রাখলে সমস্যা কি? আপনাকে রাজনীতি করতে আমি না করিনি কখনো। কিন্তু আমার বিয়ে দিতে চাইলে আমার মারা মুখটা সামনে আসলে খুশি হবেন? 

আমার ভালবাসা পবিত্র ছিলো বলেই হয়তো আমি মেয়েটার সাথে ছলনা করতে পারিনি। তাকে অন্যের হাতে তুলে দিতে পারিনি। তাই ভাবলাম, ছাত্রলীগ হয়তো আর করা হবে না। কিন্তু, আমার জন্য একটা মেয়ের মৃত্যুর পাপের বোঝা আমি বইতে পারবো তো?  এ প্রশ্নের জবাব আমার কাছে নেই।

শেষমেশ সিদ্ধান্ত নিলাম, বাবা মা কে বুঝিয়ে কাবিনটা করে ফেলি, ছাত্রলীগ এর ইতি এখানেই টানি। সামনে যুবলীগ, বা অন্যান্য কোথাও রাজনৈতিক একটা প্লাটফর্ম খুজে নেবো। বঙ্গবন্ধুর ও নৌকার আদর্শ তো তারাও লালন করেন।তাই পরিবার কে হাতে-পায়ে ধরে কাবিনের জন্য রাজি করালাম অনেক কষ্টে। কবুল বলে নিলাম। পবিত্র ভালবাসার সামাজিক স্বকৃীত হলো। নিজেকে ছাত্ররাজনীতি থেকে একটু একটু করে গুটিয়ে নিতে শুরু করলাম। 

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনৈতিক আবহ থেকে বের হয়ে আসতে পারলাম না।বিয়ের বিষয় টা কিভাবে বলি ভাই-বন্ধুদের? মন থেকে আদর্শিক ছলনা বাদ দিলেও ভাই-বন্ধুদের কাছে ঠিক-ই করে যাচ্ছি। বিয়ের বিষয় টা বলতে পারছিনা। ছিঃ ছিঃ বলবে তাই। তার সাথে আরেকটা বিষয় ও জুরে এসেছে, সেটা হলো - রাজনীতি করছি, সবাই পদ-পজিসন নিচ্ছে, আমার নেই কেনো? তাদের পদের গরম ও দেখতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। হল থেকে বের করে দিবে, রুম নিয়ে কারণে অকারণে ডিস্টার্ব করবে আজ পদ বিহীন থাকায়। আরো কিছু রাজনৈতিক কোরামীয় কোন্দলের কারনে সেটা আরো চরাও হয়ে উঠেছে। 

গ্রুপের বড়ভাই রা যার রাজনীতি করছে আমি কেনো তাদের সাথে প্রগ্রামে যাচ্ছি না? আমি এখনো ছাত্র। বয়স ও কম। যুবলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগেও আমকে নিবে না। তাই তাদের প্রগ্রাম এ যাওয়া এক দিকে অদরকারী, অন্যদিকে পারিপার্শ্বিক দৃষ্টিকোন থেকে দেখতেও খারাপ দেখায়। আর এখনকার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেতাদের সাথে প্রগ্রামে গিয়েই কি লাভ আমার? আমার তো আর ছাত্রলীগ থেকে চাওয়া পাওয়ার নাই।

তাই সাবেক যে বড় ভাইদের সাথে-পেছনে থেকে ছাত্ররাজনীতি করেছি, তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলছি। সেটা আরো বড় অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে, নানান কোন্দলের কারণে।তারপরেও বিভিন্ন দিক ম্যানেজ করে চলছি। চেষ্টা করে যাচ্ছি, আওয়ামী লীগ এর অন্য কোনো অঙ্গসংগঠন এর কোথাও নিজের একটা ঠাই করে নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে। সেটা আশাকরি হয়ে যাবে। কারণ আমি শ্রম দিতে জানি, রক্ত প্রবাহে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ।

কিন্তু এখনো আমি মাত্র ৪র্থ বর্ষে থেকেও ছাত্ররাজনীতি থেকে সরে দাড়াচ্ছি ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রকে সম্মান জানিয়ে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সাথে ভনিতা করতে পারবো না বলে। সেই আদর্শে মুখে মুখে বলে অনেকে বিয়ের বিষয় টা ইচ্ছায়, অনিচ্ছায় আড়াল করে ছাত্রলীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হচ্ছে। আবার তাদের বিয়ের সুস্পষ্ট প্রমাণ তুলে ধরা সত্যেও সংগঠন, তার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাদের পদ বাতিল করছে না। 

তাই পিতা, আপনার কাছেই আমার প্রশ্ন। আপনার নিজ হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। আপনিই এর সমাধান দেবেন। আমার কি করা উচিৎ?  আমি আপনার গড়া সংগঠন নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেছি। একটা মেয়ের বিশ্বাস রক্ষা করতে গিয়ে আপনার হাতে গড়া সংগঠন এর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আমি আযোগ্য। তাহলে যারা বিয়ে করেও বড়বড় পদ নিয়ে বসে আছে, দিব্বি ভালো দিন কাটাচ্ছে, বুক ফুলিয়ে ছাত্রলীগ করে যাচ্ছে।

আমি কি তাদের মতো পরিচয়, তথ্য গোপন করে একটা পদ হাতিয়ে নিয়ে আপনার সংগঠনকে গোপনে কলঙ্কিত করবো? তাতে কি আপনি কষ্ট পাবেন? তাতে কি আপনি আশীর্বাদ এর বদলে অভিশাপ দিবেন? আমি এর উত্তর চাই। আমি যে আপনার নিজ হাতে গড়া সংগঠন এর নেতৃত্ব দেয়ার স্বপ্ন বুকে লালন করেছি। হয়তো এখনো করছি, তবে আমি যে বিয়ের অপরাধে অপরাধী। 

আশাকরি উত্তরটা দেবেন। 
জয় বাংলা, 
জয় বঙ্গবন্ধু। 

ইতি,

জনৈক
সাবেক শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক উপ সম্পাদক,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।

আরও পড়ুন আপনার মতামত লিখুন

© Copyright -Bangla Runner 2024 | All Right Reserved |

Design & Developed By Web Master Shawon