[মনিরুজ্জামানর মুন্নার সাক্ষাৎকার। সাংবাদিক এম.এস.আই খান একটি অনলাইন পোর্টালের হয়ে এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন। যা ২রা অক্টোবর ২০১৭ তারিখে প্রকাশিত হয়। সাক্ষাৎকারটি বাংলা রানারে পুঃন প্রকাশিত হল।]
কুমিল্লা জেলার বরুড়া থানার কাঞ্চনপুর গ্রামে ১৯৯৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জন্ম তার। ২০০৯ সালে কাঞ্চনপুর এমরানিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকাস্থ ডেমরার মাদ্রাসা-ই-দারুন্নাজাত থেকে ২০১১ সালে আবারও জিপিএ-৫ পেয়ে আলিম (উচ্চ মাধ্যমিক) পাশ করেন। ২০১২-২০১৩ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে ভর্তি হয়ে ২০১৬ সালে অনার্স শেষ করেছেন। বর্তমানে একই বিভাগে মাস্টার্স পড়ছেন। শিক্ষা জীবনে মেধার স্বাক্ষর পাশাপাশি তিনি রাজনীতি, লেখালেখি ও বিতর্ক অঙ্গনেও রেখেছেন প্রতিভার স্বাক্ষর। তিনি মনিরুজ্জামান মুন্না। সম্প্রতি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হলের বিতর্ক সংগঠন এফআরডিসির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তারুণ্যের আড্ডায় এবার কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষৎকার নিয়েছেন- এম.এস.আই খান
স্বাগতম, কেমন আছেন?
মনিরুজ্জামান মুন্না: জ্বী, ভালো আছি।
এফআরডিসির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর আপনার অনুভূমি কি?
মনিরুজ্জামান মুন্না: এই ব্যাপারে বলতে গেলে আমার মাঝে মিশ্র অনুভূতি কাজ করছে। প্রথমত, বিতর্ক আমার ভালোবাসার নাম, এফ আর ডিসি আমার সেই ভালোবাসার আঁতুড়ঘর। সভাপতি হতে পেরে ভালো লাগা তো অবশ্যই কাজ করছে, সেই সাথে এই দায়িত্বটা যথাযথভাবে পালন করে ক্লাবের সার্বিক উন্নয়নের ধারাবাহিতা বজায় রাখাটাও আমার জন্য চ্যালেঞ্জ। আমি সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে কাজ করে যাচ্ছি।
সংগঠন নিয়ে আগামী এক বছরে আপনার ভাবনা কি?
মনিরুজ্জামান মুন্না: এখন আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে নবীন বিতার্কিকদের জন্য বিতর্ক কর্মশালার আয়োজন করা, তারপর অন্তঃহল বিতর্ক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিতার্কিক অনুসন্ধান করা। বর্তমানে ক্লাবে কয়েকজন উদীয়মান বিতার্কিক রয়েছেন। তাদের সমন্বয়ে কয়েকটি টিম গঠন করে প্রতি সেশনে অনুশীলন করানো। এখান থেকে সেরা দু'টি টিমকে দিয়ে বিভিন্ন হল বা অন্যান্য ক্লাবের সাথে প্রতিযোগিতায় পাঠাবো। তাছাড়া আগামী জানুয়ারিতে আমারা জাতীয় পর্যায়ে একটি বিতর্ক উৎসব করবো। যেখানে সকল পাবলিক এবং প্রাভেট বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার সকল স্কুল ও কলেজ অংশ গ্রহণ করতে পারবে।
আপনার বিতর্ক চর্চায় হাতিখড়ির গল্পটা শুনতে চাই?
মনিরুজ্জামান মুন্না: ছোট বেলায় যখন টিভিতে বিতর্ক অনুষ্ঠান দেখতাম তখন থেকেই বিতার্কিক হওয়ার স্বপ্ন আঁকা। প্রথম বর্ষে হলে এসেই বিতর্কের ক্লাব কোথায় সেই খোঁজ করেছি। তারপর থেকে প্রতি মঙ্গল ও শুক্রবার বিশেষ কারণ ছাড়া ক্লাবে যাওয়া মিস কিরতাম না। বলতে পারেন, FRDC তেই আমার আনুষ্ঠানিক বিতর্কের হাতেখড়ি। তারপর থেকে ২য় বর্ষে ক্লাবের দপ্তর সম্পাদক নির্বাচিত হই। এর ধারাবাহিকতায় ৩য় বর্ষে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, ৪র্থ বর্ষে সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি।
কোন ধরনের বিতর্ক শুনতে বেশি পছন্দ করেন? আর কোন ধরনের বিতর্ক করতে পছন্দ করেন?
মনিরুজ্জামান মুন্না: সমসাময়িক বিষয়ের উপর বিতর্ক বেশ উপভোগ করি, বিশেষ করে রাজনৈতিক বিতর্ক। আর বারোয়ারি বিতর্কটা আমাকে বেশি টানে।
একজন বিতার্কিক হিসেবে যদি কোন অর্জন বা অভিজ্ঞতা থাকে...
মনিরুজ্জামান মুন্না: গত চার বছরে হলের ক্লাব এবং ডিপার্টমেন্ট এর ক্লাবের হয়ে অনেক প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করেছি। ঢাকা ইউনিভারসিটি ডিবেটিং সোসাইটির প্রতিটি প্রোগ্রামে সক্রিয় অংশ গ্রহণের ফলে অভিজ্ঞতার ঝুলিতে অনেক কিছু অর্জন রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডেবেটিং সোসাইটির (ডিইউডিএস) বর্তমান কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি।
বিতর্ক চর্চার বাইরে অন্য কোন অর্জন, সাফল্য কিংবা দক্ষতা, বা বিশেষ গুণ...
মনিরুজ্জামান মুন্না: বিতর্কের বাইরে লেখালেখি করতে ভালো লাগে, বিশেষ করে কবিতা আমার প্রেমিকার মত। জাতীয় দৈনিকসহ বিভিন্ন ম্যাগাজিনে প্রায় অর্ধশত কবিতা ও গল্প ছাপা হয়েছে। এছাড়া অভিনয় এবং আবৃত্তি চর্চা করি। এ দুইটি বিষয়ে একাধিক পুরস্কারও পেয়েছি।
নতুন বিতার্কিকদের জন্য পরামর্শ কি?
মনিরুজ্জামান মুন্না: নতুন বিতার্কিকদের জন্য বলবো, ভালো বিতার্কিক হওয়ার জন্য অনেক বেশি বিতর্ক দেখতে হবে, আর মৌলিক কিছু বই পড়ার বিকল্প নেই।
বিতর্ক চর্চা ছাড়া আর কোন সংগঠন বা কোন কাজের সাথে জড়িত আছেন কি? সংক্ষেপ যদি জানাতেন....
মনিরুজ্জামান মুন্না: নাট্য চর্চার ক্ষেত্রে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাট্য সংসদ’ এর সহ- সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি বিতর্ক, নাটক এবং আবৃত্তি ছাড়াও যে কাজটি আমি মন থেকে করেছি, সেটি হলো রাজনীতি। ২০১৩ সালের শেষের দিকে প্রথম বর্ষেই আমি হল ছাত্রলীগের "ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ছিলাম। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের " উপ-শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি।
আগামীতে আপনার স্বপ্ন কি?
মনিরুজ্জামান মুন্না: আমার স্বপ্ন একটাই, বাংলাদেশের সেবা করা।
আপনাকে ধন্যবাদ।
মনিরুজ্জামান মুন্না: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।