সুর থেকে তর্কে, প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে স্বপ্ন: মৌসুম


মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯


[জুনায়েদ মুফরাদ মৌসুমের সাক্ষাৎকার। সাংবাদিক এম.এস.আই খান একটি অনলাইন পোর্টালের হয়ে এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন। যা ৩রা অক্টোবর ২০১৭ তারিখে প্রকাশিত হয়। সাক্ষাৎকারটি বাংলা রানারে পুঃন প্রকাশিত হল।]

জুনায়েদ মুফরাদ মৌসুম। চট্টগ্রামের ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল থেকে ২০১১ মাধ্যমিক পাশ করার পর ইস্পাহানী পাবলিক কলেজ থেকে ২০১৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। পরে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের ১ম ব্যাচের ভর্তি হওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয় জীবন। গানকে মনে করেন জীবনের অংশ, তবুও সুরের মঞ্চ ছেড়ে এসেছেন বিতর্কের অঙ্গনে।  হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের বিতর্ক ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক। তারুণ্যের আড্ডায় এবার কথা বলেছেন তিনি। সক্ষাৎকার নিয়েছেন -এম.এস.আই খান।

স্বাগতম, কেমন আছেন?
জুনায়েদ মুফরাদ মৌসুম: জ্বী ভালো।

সম্প্রতি আপনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের  স্যার এ এফ রহমান হলের বিতর্ক সংগঠন এফআরডিসির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। অনুভূমি কি?
জুনায়েদ মুফরাদ মৌসুম: আসলে বিতর্কের প্রতি ছোটবেলা থেকেই একটা বিশেষ ভালোবাসা কাজ করে। বিতর্কভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠনেও কাজ করেছি স্কুল থেকেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের বিতর্ক চর্চার পীঠস্থান। এর সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠনে একটি দায়িত্ব পাওয়া নিঃসন্দেহে আনন্দের। তবে এটি একটি বড় দায়িত্বও বটে। দায়িত্বের জায়গা থেকে কিছুটা চাপও অনুভূত হচ্ছে।

সংগঠন নিয়ে আগামী এক বছরে আপনার ভাবনা কি?
জুনায়েদ মুফরাদ মৌসুম: আমরা বিশ্বাস করি বিতর্ক চর্চার নিজস্ব একটি দর্শন রয়েছে। সে দর্শন মুক্তভাবে চিন্তা করতে শেখায়, যুক্তিবোধে উদ্ভাসিত হতে শেখায়। সে দর্শনকে সমুন্নত রেখেই আমরা বছরব্যাপি কর্মসূচী গ্রহণ করবো। বিতর্কে ইদানীং ‘তত্ত্বগত’ চর্চা অনেক হ্রাস পেয়েছে। আমরা এ বিষয়ে গুরুত্ব দেবো। পাশাপাশি ঢাবি’র হলগুলোতে ইংরেজি বিতর্কের চর্চা অনেক কম হয়। হলে ইংরেজি বিতর্ক নিয়ে বেশি বেশি কাজ করার ইচ্ছা আছে।

আপনার বিতর্ক চর্চায় হাতিখড়ির গল্পটা শুনতে চাই?
জুনায়েদ মুফরাদ মৌসুম: আমার বিতর্কের হাতেখড়ি স্কুলে থাকতেই। আমার স্কুল ছিল ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল, চট্টগ্রাম। স্কুল দলে বিতর্ক করতাম। আমাদের স্কুলে সহপাঠ কার্যক্রমের একটি অসাধারণ পরিবেশ ছিল। আমার স্কুলের প্রতি আমি ঋণী। স্কুলে থাকতেই চট্টগ্রামের একটি শীর্ষস্থানীয় বিতর্ক সংগঠন ‘দৃষ্টি চট্টগ্রাম’-এ র সাথে সম্পৃক্ততা ছিল। ‘দৃষ্টি’-র সাথে সম্পৃক্ত থাকায় বিতর্ক এবং সাংগঠনিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ হয়। কলেজেও তার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।

একজন বিতার্কিক হিসেবে যদি কোন অর্জন বা অভিজ্ঞতা থাকে...
জুনায়েদ মুফরাদ মৌসুম: বিতার্কিক হিসেবে অর্জন বলতে স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু প্রতিযোগীতায় চ্যাম্পিয়ন হবার সৌভাগ্য ছিল আমার। তবে বিতার্কিক হিসেবে সবচেয়ে বড় অর্জন হলো যুক্তি দিয়ে চিন্তা করতে শেখা। আর স্মরণীয় অভিজ্ঞতার কথা যদি বলি তবে কলেজে থাকতে একবার এক আন্তঃক্লাব প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দলকে হারানোর সৌভাগ্য হয়। এটি শুধু বিতর্ক নয়, পুরো জীবনেরই একটি স্মরণীয় ঘটনা।

নতুন বিতার্কিকদের জন্য পরামর্শ কি?
জুনায়েদ মুফরাদ মৌসুম: নতুন যাদেরকে আমরা বিতর্ক করতে দেখছি তাদের মধ্যে ব্যাপক সম্ভাবনা। তবে পড়াশোনা করে বিতর্ক করবার ঘাটতি দেখা যায়। পরামর্শ থাকবে বিতর্কের মাধ্যমে নিজের বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নতি সাধন করাই যাতে লক্ষ্য থাকে, অন্যকিছু নয়।

বিতর্ক চর্চার বাইরে অন্য কোন অর্জন, সাফল্য কিংবা দক্ষতা, বা বিশেষ গুণ...
জুনায়েদ মুফরাদ মৌসুম: বিতর্ক চর্চার বাইরে আমি বহুদিন যাবত ব্যান্ড মিউজিকের সাথে জড়িত। ছোটবেলা থেকে গিটার বাজানো হয়। গান ভালোবাসি, ‘মিউজিককে’নিজের অংশই মনে হয়।

বিতর্ক চর্চা ছাড়া আর কোন সংগঠন বা কোন কাজের সাথে জড়িত আছেন কি? সংক্ষেপ যদি জানাতেন....
জুনায়েদ মুফরাদ মৌসুম: আমি অনেকদিন যাবৎ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের গবেষণা  কেন্দ্র "সেন্টার ফর জেনোসাইড এন্ড জাস্টিস" এ কাজ করছি। একজন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের বিভিন্ন গবেষণা কাজেও কাজ করার সুযোগ হয়েছে আমার। এছাড়াও, স্যার আহমেদ ফজলুর রহমান হল (এফ রহমান হল) সাংস্কৃতিক সংসদের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এছাড়াও বিভিন্ন সমাজেবামূলক সংগঠনের সাথেও পরোক্ষ সম্পৃক্ততা আছে।

আগামীতে আপনার স্বপ্ন কি?
জুনায়েদ মুফরাদ মৌসুম: মানুষ হিসেবে আমার স্বপ্নের পরিধি বেশ ছোট। স্বপ্ন প্রতিনিয়ত বদলায়, বদলাচ্ছে। মা-বাবার মুখে সবসময় হাসি ধরে রাখতে পারবো, এটি বড় একটি স্বপ্ন। এ দেশের জন্য ছোট কিছু হলেও করতে পারবো, এ স্বপ্নও দেখি।

আপনাকে ধন্যবাদ।
জুনায়েদ মুফরাদ মৌসুম: আপনাকেও ধন্যবাদ।