সাত কলেজ সংকট:

“নামেমাত্র ঢাবির সার্টিফিকেট পেয়ে তারাও সন্তুষ্ট নয়”

এম.এস.আই খান
বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রাজধানীর সরকারি সাত কলেজ ইস্যুতে নিজের মতামত জানিয়েছেন ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর। একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, “অধিভুক্ত সাত কলেজের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের দেখভালের সক্ষমতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাই। শুধু শুধু তারা নিয়ে পারবে না। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে যেয়ে শিক্ষার্থীরা বরং ভোগান্তিতে পড়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ভোগান্তিতে পড়বে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান যেই লেভেলে থাকার কথা ছিল সেই লেভেলে নাই, র‌্যাকিংয়ে নাই। এই অবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের মানটা কিভাবে উন্নতি করা যায়, শিক্ষার্থীদের গবেষণার কিভাবে সুযোগ করে দেয়া যায়।  সেটা না করে হাজার হাজার শিক্ষার্থী নেয়ার কোন মানে নাই। 

এটা আসলে আমরা মনে করি অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আসলে যে লক্ষ্যটা ছিল, ২০১৪ সালে তিনি বলেছিলেন, বিভাগীয় পর্যায়ে যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আছে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সংশ্লিষ্ট এলাকার কলেজগুলোকে নেয়ার। কিন্তু অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয় নেয় নাই। 

কারণ তারা তখন বলেছিল যে সেই সক্ষমতা, সেই সামর্থ তাদের নাই। তারা আসলে এটা পারবে না। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দায়িত্ব নিয়েছে। আমি মনে করি যে, সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করার উদ্দেশ্যে। তার সিদ্ধান্ত মেনে নিলে তিনি খুশি হবেন সে কারণে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয় এটা নেয় নাই। 

প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ ছিল, কলেজগুলোর মান ভাল করা। সে ক্ষেত্রে অনেক বিকল্প আছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে কিভাবে ডায়নামিক করা যায়, কারিকুলামকে মডিফাই করা যায়। প্রয়োজনে বিভাগীয় পর্যায়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক শাখা করা যায়।

মূল উদ্দেশ্যে ছিল মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা। এখন শুধু এই সাত কলেজকে করে তো অন্যগুলোরটা হচ্ছে না। আর সাত কলেজেরটাও তো হচ্ছে না। আমরা দেখলাম শিক্ষার্থীদের আন্দোলন করতে হল- যথাসময়ে ফলাফল প্রকাশ ও পরীক্ষা নেওয়ার জন্য! 

এই নামেমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট পেয়ে তারাও আসলে সন্তুষ্ট না।  আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও এটা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত বাস্তবতার নিরিক্ষে একটা সিদ্ধান্তে আসা- কাউকে খুশি করার জন্য কিংবা আবেগ থেকে নয়।”