দিন দিন আমরা ইট-কাঠ-পাথরের নগরীতে সবুজকে হারিয়ে ফেলছি। সবুজের স্পর্শ থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। এরপরও মানুষ বিভিন্নভাবে সবুজকে আগলে রাখতে চায়, চায় সবুজের নিবিড় সান্নিধ্য। তাই কংক্রিটের নগরীতে বাড়িতে ছাদ হয়ে উঠতে পারে এক টুকরো সাজানো বাগান। অবসর সময় কাটাতে আর ঘরের তাপমাত্রা কম রাখতে ছাদবাগানের অবদান অনেক। এমনকি ছাদে বাগান করার মাধ্যমে বিভিন্ন ফল, সবজি ইত্যাদির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।
বিশ্বব্যাপী নগরায়ণ বাড়ছে। ফলে নগরসবুজ ধরে রাখার চেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। কেবল বাংলাদেশেই নয়। বিশ্বের দেশে দেশে এর গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। শহরাঞ্চলে ফুল, ফল ও সবজির পারিবারিক বাগান এখন আর কেবলই শৌখিনতা বা পারিবারিক প্রয়োজন নয়। পরিবেশ সুরক্ষায় এটি অনন্য অবদান রাখছে।
সবুজকে মনে-প্রাণে ধারণ করে সেই ছোটবেলা থেকে আমার পথচলা। বাবা ছিলেন প্রকৃতিপ্রেমী। গাছপালার সঙ্গে ছিল তার দারুণ সখ্য। কাজের ফাঁকে সময় পেলেই ছুটে যেতেন গাছের কাছে। পরম মমতায় গায়ে হাত বুলাতেন, পরিচর্যা করতেন। বাবার এসব কর্মকাণ্ড আমার মনেও গেঁথে গিয়েছিল। গাছের প্রতি ভালোবাসা তাই ছোটবেলা থেকেই। সেইসঙ্গে বাগান করার সুপ্ত বাসনা ছিল মনে মনে। সুযোগের অভাবে বড়বেলায় এসে পূরণ হল। এক বছর ছাদে বাগান করার প্রয়াস আমার অব্যাহত আছে। একটু একটু করে ছাদ সবুজে ভরে উঠছে। পাখির কিচিরমিচির শুনি। ফুলের সৌরভে মনটা ভরে যায়, সৌন্দর্যে চোখ জুড়ায়।
গাছ থেকে ফল ছিঁড়ে পরিবারের সবাই মিলে খেতে যে কি আনন্দ তা বলে বোঝানো যাবে না। সকাল-সন্ধ্যা পরিচর্যা করি আমার সবুজ ভুবন। মূলত ছাদের নীতিমালা বজায় রেখে ছাদবাগান এখন সময়ের দাবি। এভাবে ঢাকাসহ শহরাঞ্চলের সবুজ সমুন্নত রাখা সম্ভব। ইদানীং ডেঙ্গুর আগ্রাসী আক্রমণকে কেউ কেউ ছাদবাগানকে অনেকাংশে দায়ী করছেন। ধারাণাটি ভুল। ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য ছাদবাগানের ছোট পট, টব বা গামলার পানি ফেলে উপুড় করে রাখা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে ছাদবাগানের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। মনে রাখতে হবে- জীবন বাঁচাতে এবং জীবন সাজাতে ছাদবাগান এখন অপরিহার্য।