আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা
‘ক্রোমোজোমের কারণে শিশুরা ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়। এটা কোনো রোগ নয়। এই বৈশিষ্ট্যের অধিকারি সবার মানসিক পরিচর্যা দরকার। এই বৈশিষ্ট্যের মানুষেরা সুযোগ পেলে তাদের সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটাতে পারবে। নিজের মতো করে তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে। তাদের সামাজিক মর্যাদা ও শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।’
আজ রোববার (২৭অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়র আর সি মজুমদার মিলনায়তনে ‘অক্টোবর ডাউন সিনড্রোম সচেতনতা মাস ২০১৯’ উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা একথা বলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়র যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডাক্তার হাকিম আরিফের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন- ডাউন সিনড্রোম সোসাইটি অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সরদার এ রাজ্জাক, জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হসপিটালের চেয়ারম্যান অধ্যপক ডা. সরদার এ নাঈম, সুইট বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মুনির এবং আরটিভির ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর সৈয়দা মুনিরা ইসলাম।
জাতীয় পর্যায়ে ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু ও ব্যক্তিদের সামাজিক মর্যাদা, গ্রহণযোগ্যতা, অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়র যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগ, ডাউন সিনড্রোম সোসাইটি অব বাংলাদেশ, জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হসপিটাল যৌথভাবে চতুর্থবারের মতো এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
সভায় মোহিত কামাল বলেন, প্রত্যেকটা মানুষের পরিচর্যা করতে হবে। ক্রোমোজোমের কারণে শিশুরা সন্তান ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়। এটা কোনো রোগ নয়। এই বৈশিষ্ট্যের অধিকারি সবার মানসিক পরিচর্যা দরকার। ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে বিকাশের সুযোগ দেওয়ার জন্য অভিভাবকদের ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, আপনার সন্তানের আচরণ অন্যরকম হলেও তার মেধা আছে, কল্পনাশক্তি আছে। ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সন্তানেরা সুযোগ পেলে তাদের সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটাতে পারবে। আমাদের এটি গ্রহণ করতে হবে। অন্য সন্তানের সঙ্গে তুলনা করা যাবে না। তার ভেতরকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। স্বতঃস্ফ‚র্তভাবে তাকে বড় হতে দিতে হবে। তাহলে সে আপনাকে গৌরবদীপ্ত করবে। তার স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশ যেন বন্ধ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আপনার সন্তানকে আপনার বুঝতে হবে। অন্যের মতো নয় তার মতো করে তাকে প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে।
সরদার রাজ্জাক বলেন, আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যের অধিকারী শিশু যেন সামাজিক মর্যাদা ও শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারে। এটা কোনো রোগ নয়, তারা স্বাভাবিক মানুষ হবে তা আমাদের সোসাইটিতে বোঝানো দরকার।
মাহবুবুর রহমান মুনির বলেন, ডাউন সিনড্রোম শিশুর বাবা হিসেবে আমার কোনো দুঃখ নেই। প্রতিনিয়ত আমি সন্তানের যতœ নিচ্ছি। কিন্তু আমাদের অনুপস্থিতিতে তাদের দায়িত্ব কে নেবে এ বিষয়টা আমাকে পীড়া দেয়।
এর আগে সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ডাউন সিনড্রোমে বৈশিষ্ট সম্পন্ন শিশু, ব্যক্তি ও অভিভাবকদের নিয়ে এক শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে সচেতনতা কর্মসূচি শুরু হয়। আলোচনা শেষে ডাউন সিনড্রোমে বৈশিষ্ট সম্পন্ন শিশুদের সমন্বয়ে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।